টেক জায়ান্ট গুগল প্রযুক্তি বিশ্বের নানান দিকে ছড়িয়ে দিয়েছে তাদের। একটি সার্চ ইঞ্জিন থেকে শুরু করে তাদের সীমানা ছড়িয়ে পড়েছে নানান দিকে। ধীরে ধীরে তারা ওয়েব ব্রাউজার চালু করেছে, চালু করেছে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট পিসি’র জন্য অপারেটিং সিস্টেম এবং পিসি’র জন্যও ওয়েবনির্ভর অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে এসেছে তারা। এছাড়াও অনলাইনে নানান নিত্য নতুন সেবা চালুর দিকেও তাদের নজর রয়েছে। এর মধ্যে গত বছর তারা চালু করে নতুন ধরনের ধারণা নিয়ে গুগল টিভি। সেট টপ বক্স বা বিশেষ ধরনের টেলিভিশন সেটে চালু এই সেবা প্রচলিত টেলিভিশনের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এই গুগল টিভি মূলতই ইন্টারনেট নির্ভর। এতে রয়েছে বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখার পাশাপাশি ইন্টারনেটে নানান কনটেন্ট সার্চ করার সুবিধা। আর
এমনিতেও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে এতে। নতুন ধরনের ধারণা নিয়ে গুগল টিভি চালু হলেও এটি খুব বেশী সাড়া ফেলতে পারেনি মানুষের মাঝে। বিশ্বব্যাপী গুগল এর নানান জনপ্রিয় সেবার মত এটি অতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করকে ব্যর্থ হয়। তবে গুগল টিভি নিয়ে আশা ছাড়েনি গুগল। এটি টিভিকে তারা জনপ্রিয় করে তুলতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। মাঝের কিছুটা সময় সামাজিক যোগাযোগের প্লাটফর্ম গুগল প্লাস নিয়ে গুগল খুব ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে। এই সময়ে তাদের মনোযোগের বেশীরভাগ অংশ জুড়েই ছিল গুগল প্লাস। তবে আবার গুগল টিভি’র দিকে মনোযোগ দিয়েছে গুগল। তাই সম্প্রতি তারা নতুন করে ইন্টারফেস পরিবর্তন করেছে গুগল টিভি’র। তারা নিয়ে এসেছে গুগল টিভি’র দ্বিতীয় সংস্করণ। টেলিভিশর সেট হিসেবে সনি এবং লজিটেক এর আগের ডিভাইসটি থাকলেও খুব শীঘ্রই এই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে স্যামসাং এবং ভিজিও’র ডিভাইস। তবে হার্ডওয়্যার নয়, গুগল মূল পরিবর্তন নিয়ে আসছে তাদের সিস্টেমে। এখন তাদের গুগল টিভি’র ইন্টারফেস হবে আরও সহজ এবং সাধারন। এতে ইন্টারনেটে টিভি কনটেন্ট আগের চেয়ে অনেক সহজে খুঁজে বের করার ব্যবস্থা রয়েছে। এর পাশাপাশি এবার গুগল টিভি’র জন্য অ্যাপ্লিকেশন তৈরির বিষয়টিও উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে সকলের জন্য। ডেভেলপাররা এখন চাইলেই গুগল টিভি’র জন্য বিশেষায়িত অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে পারবেন। এর সাথে অন্যান্য অ্যানড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন চালানোর এবং গেম খেলার ব্যবস্থাতো রয়েছেই। ইন্টারনেট সংযোগ থাকায় খুব সহজেই গুগল টিভিতে ব্যবহার করা যাবে ইউটিউব এবং নেটফ্লিক্স সার্ভিস। এতে ইউটিউবের ভিডিওগুলো আরও সহজে খুঁজে বের করা যাবে। গুগল টিভিতে এসব নতুন ফিচার চালু হলেও এবিসি, এনবিসি বা সিবিএস এর মত বড় বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এখনও রয়ে গেছে গুগল টিভি’র ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এসব টেলিভিশন নেটওয়ার্ক গুগল টিভিতে যুক্ত হলে গুগল টিভি’র জনপ্রিয়তা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক বেড়ে যেত বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তা না হলেও নতুন ইন্টারফেসের গুগল টিভি এর জনপ্রিয়তাকে অনেকখানি বাড়িয়ে দিতে সক্ষম হবে বলেই আশা করছে গুগল।
0 মন্তব্য:
Post a Comment